Showing posts with label ইতিহাস-ঐতিহ্য. Show all posts
Showing posts with label ইতিহাস-ঐতিহ্য. Show all posts

ঘুরে আসি: ইতিহাস ঐতিহাসিক সমৃদ্ধ বিনোদগঞ্জ


Binod Jong heronদক্ষিণ বাংলায় এরকম এক মনোমুগ্ধকর স্থান আছে তা ভাবাই যায় না। এখানে নাএলে সত্যিই কেউ বিশ্বাস করতে পারবেন না এমন স্বপ্নময় জগৎ বাংলায় আছে।খুলনা জেলার উপকূলবর্তী সুন্দরবন ঘেষা শিপসা, মিনহাজ, কপোতাক্ষ বিধৌতপাইকগাছা। এখানে একবার এলেই আপনার ধারণা পাল্টে যাবে। রায় সাহেব বিনোধবিহারী সাধুর বিনোদগঞ্জের মত দর্শনীয় স্থান বাংলায় মেলা ভার। বিনোদগঞ্জেরচারপাশ পুরাকীর্তিতে ঠাসা। এখান থেকে ঘুরে এসে বিভিন্ন খোঁজ খবর নিয়েলিখেছেন: শরিফুল ইসলাম হিরণ, ছবি: তুলেছেন দীপ অধিকারী

বিনোদগঞ্জের প্রবেশ পথের প্রথমে ডান দিকে দেখতে পাবেন ভারত চন্দ্রহাসপালাত ও  যাদব চন্দ্র দাতব্য চিকিৎসালয়। যে দিকে তাকাবেন সে দিকে শুধুজনদরদী মহাপুরুষ, জন সেবক রায় সাহেবের স্মৃতি নিদর্শণ আপনার চোঁখে পড়বে।বিনোদ বিহারী সাধু তাঁর পিতামহ ভরত চন্দ্রের নামে বাং- ১৩৩৭ সনে দুঃস্থমানুষের সেবায় বিশ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল ও পিতার নামে যাবদ চন্দ্রদাতব্য চিকিৎসালয় নির্মাণ করেন। এই হাসপাতালটি ১৯৭৫ সালে সরকারী করা হয়।দ্বি-তল এই হাসপাতালটি অবহেলায় সেই লোহার গোল সিঁড়িটি ধ্বংস হয়ে গেছে, তেমনি প্রতিটি ভবনের প্লাষ্টার খসে শ্রীহীন হয়ে পড়েছে। অবহেলার জন্যহাসপাতালের ষ্টাফ কোয়ার্টার ও পুকুরটির শ্রী হারিয়ে ফেলেছে। অথচ যখনখুলনা শহরে বিদ্যুৎ ছিল না তখন এই হাসপাতাল সহ কপিলমুনি বাজারে রায় সাহেবনিজস্ব জেনারেটর দিয়ে আলো জ্বালিয়ে রাখতেন। ঘুরে ফিরে এই হাসপাতালে বিশালএলাকা দেখতে আপনার ভাল লাগবে। সামনের কিছু দূর এগোনোর পর রাস্তার বামপাশে  কপিলমুনি সহচারী বিদ্যামন্দির স্কুলটি দেখতে পাবেন।
কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দির – মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত কপিলমুনি

মা দিবস


মায়ের প্রতি সন্তানের ভালোবাসার ইতিহাস হাজার বছরের পুরোনো ইতিহাস। প্রতি বছরের মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার পালিত হয় ‘মা দিবস’। .মনে হতে পারে, মায়ের ভালোবাসার জন্য আবার আলাদা করে একটি দিন রাখার কী দরকার? আমরা সবাই তো আমাদের মাকে প্রতিদিনই খুব ভালোবাসি। কিন্তু, শুধু মায়ের ভালোবাসার জন্য একটি আলাদা দিন থাকার মজা হল। এদিন পৃথিবীর সকল সন্তান একসঙ্গে সব মাকে শুভেচ্ছা জানাবে, উপহার দিবে। শুধু তাই না, এদিনে কিন্তু শুধু নিজের মাকে ভালোবাসলেই হবে না, সম্মান জানাতে হবে সকল মাকেই।
এই ‘মা দিবস’ পালনের চিন্তাটা কিন্তু বেশ পুরনো। এমনকি কয়েক হাজার বছর আগেও মা দিবস পালন করা হত। মিশর, রোম ও গ্রিসে মা দিবস পালন করা হত খ্রিস্টের জন্মের অনেক আগে থেকেই। তবে সে মা দিবসটা এখনকার মা দিবসের মতো ছিল না। তখনকার মা দিবস ছিল দেবতাদের মায়ের দিবস। সেদিন বিভিন্ন দেবতার মায়ের আরাধনা করা হত। আরাধনা করা হত দেবী আইসিসের কিংবা সিবিলির অথবা রিয়ার।
সত্যিকারভাবে মায়েদের জন্য দিবস পালন শুরু হয় ১৬ শতকে এসে, ইংল্যান্ডে। দিনটিকে ওরা বলত, মাদারিং ডে। এদিন সরকারি ছুটিও ছিল। মাদারিং ডে তে পরিবারের সবাই মায়ের কাছে এসে, মায়ের সঙ্গে সারাদিন কাটাত। তবে শেষতক এই দিবসটি তেমন প্রসার লাভ করেনি।
ব্রিটিশরা যে পৃথিবীর নানা অঞ্চলে উপনিবেশ স্থাপন করেছিল। এমনকি আমেরিকাও ছিল ব্রিটিশ উপনিবেশ। তখন ইংল্যান্ড থেকে দলে দলে লোকজন আমেরিকায় গিয়ে বসবাস করতে শুরু করে। আমেরিকায় আসা

বরকতময় জমজম কূপের ইতিহাস

zam-zam

ডেস্ক :পবিত্রতা, প্রাণময়তা ও বৈশিষ্ট্যে জমজম কূপের পানি পৃথিবীর সকল পানির চেয়ে উত্তম। কাবাগৃহের ফজিলতের সাথে জমজম কূপের মাহাত্ম্য ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কাবাগৃহের ইতিহাস ও জমজম কূপ একের সাথে অন্যটি গুরুত্বপূর্ণভাবে জড়িত। হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর ইতিহাসের সাথে জমজম কূপের ইতিহাস বর্ণনা রয়েছে। হজরত ইবরাহিম (আ.) যখন শিশু ইসমাঈল (আ.)সহ বিবি হাজেরা (আ.)কে মক্কায় নির্বাসনে পাঠান, তখন থেকেই জমজম কূপের আবির্ভাব হয়। হজরত ইবরাহিম (আ.) যখন সিরিয়া থেকে মক্কায় পৌঁছেন তার বিবি হাজেরা (আ.) এবং দুধের শিশু হজরত ইসমাঈলকে (আ.) মক্কার মরুভূমিতে রেখে সিরিয়া প্রত্যাবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তখন এক মশক পানি এবং একটি থলের মধ্যে কিছু খেজুর তাদের কাছে রেখে গেলেন। হজরত হাজেরা কয়েকদিন পর্যন্ত সে পানি ও খেজুর খেলেন এবং নিজের কলিজার টুকরা হজরত ইসমাঈলকে দুধ পান করালেন। কিন্তু এক সময় মশকের পানি ও খেজুর ফুরিয়ে এল। তিনি তখন এক চরম অসহায়তার মধ্যে নিপতিত হলেন। তাঁর শিশু সন্তানটিও ক্ষুধার তাড়নায় ছটফট করতে লাগলো। বিবি হাজেরা তখন সন্তানের দুর্দশায় তাঁর আদরের দুলালকে দুধ পানে সমর্থ হলেন না। এমতাবস্থায় তৃষ্ণাকাতর মা পানির

৫০০ বছর প্রাচীন ঐতিহ্যবাহি কিসমত মাড়িয়া মসজিদ ,হতে পারে দর্শনীয় স্থাপনা


rajsahi_n রাজশাহী থেকে ফিলিয়াপস হোসেন : কিসমত মাড়িয়া মসজিজিদ রাজশাহী উপজেলার দুর্গাপুর উপজেলার কিসমত মাড়িয়া গ্রামে অবস্থিত প্রত্নতত্ব অধিদপ্তরের আওতাভুক্ত একটি ঐতিহ্যবাহি স্থাপনা ।দুর্গাপুর উপজেলার প্রাচিন এই মসজিদটি রাজশাহী সদর হতে রাজশাহী- ঢাকা মহাসড়ক ধরে প্রায় ১৩ কি.মি. গেলে শিবপুর বাজার নামক স্থান হতে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সাইনবোর্ড ধরে এগিয়ে ৪-৫ কি.মি. গেলে এই মসজিদ পাওয়া যাবে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অন্তর্ভূক্ত হলেও আজ পর্যন্ত এর কোন রক্ষনাবেক্ষণ বা সংরক্ষণের কোন উদ্যগ নেওয়া হয়নি। আমবাগান আর ফসল এর ক্ষেত বেষ্ঠিত এ মসজিদটি সম্পর্কে গ্রামের জনগণের মধ্যে অনেক কিংবদন্তি কাহিনী প্রচলিত আছে। এ মসজিদ সম্পর্কে সঠিক কোন ইতিহাস পওয়া যায়না, তবুও নির্মাণশৈলী দেখে ও স্থানীয় সুত্র থেকে অনুমান করা হয় মসজিদটি আনুমানিক ১৫০০ সালে স্থানীয় কোন মুসলিম দরবেশ বা দিল্লির মুঘল শাসকদের নির্দেশে কোন জমিদার কর্তৃক নির্মিত।
মসজিদটির ক্ষয়ে যাওয়া দেয়ালে এখনও কিছু শৈল্পিক কর্ম বিদ্যমান। মুসলিম ঐতিহ্য অনুসারে শিল্পীদের কৃত পোড়ামাটির টেরাকোটা যা গাছ-ফুল-
লতা ইত্যাদি ধারণ করেছে সেগুলো এ মসজিদের সৌন্দর্য ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করেছে। তৎকালীন হিন্দুপ্রধান এ এলাকায় মুসলিমদের সংখ্যা কম হওয়ায় এ মসজিদটি আকারে বেশ ছোট। মসজিদটির তিনটি প্রবেশদ্বার আছে। প্রত্যেকটি দ্বারের ঠিক সামান্তরালে উপরে ছাদের  মাঝামাঝি একটি করে গম্বুজ আছে।

অগ্নিঝরা মার্চ: ২ মার্চ, ১৯৭১ এই দিনে


Somoyerkonthosorডেস্ক: ঢাকা এদিন ছিলো হরতালের নগরী, মিছিলের নগরী এবং কারফিউর নগরী।দিনের হাইলাইট ছিলো বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের জাতীয় পতাকা উত্তোলন।
সকাল থেকেই মিছিল ছিলো বিশ্ববিদ্যালয়মুখী। স্মরণকালে এমন ছাত্র সমাবেশ দেখেনি কেউ! নিউমার্কেটের মোড় থেকে নীলক্ষেতের সড়ক দিয়ে পাবলিক লাইব্রেরি পর্যন্ত যার বিস্তার। এদিন বটতলায় ওড়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা, ওড়ায় ছাত্রলীগের নেতৃত্বাধীন ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ।সমাবেশ শেষে বিশাল এক মিছিল রড ও লাঠি উচিয়ে ঢাকা শহর প্রদক্ষিন করে।

উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হচ্ছে এদিন থেকে পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তান কথাটা একরকম হাওয়া হয়ে যায় বাঙালীদের মুখ থেকে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সন্ধ্যায় তার প্রেস কনফারেন্সে বারবার বাংলাদেশ উচ্চারণ করেন।
বায়তুল মোকাররমে পাকিস্তান ন্যাশনাল লীগ প্রধান আতাউর রহমান খান এক প্রতিবাদ সমাবেশ আয়োজন করেন বাংলা লীগের ব্যানারে। সে সমাবেশে উল্লেখযোগ্য যারা বক্তৃতা দেন তার মধ্যে ছিলেন শাহ আজিজুর রহমান, ফেরদৌস আহমেদ কোরেশী এবং মিসেস আমেনা বেগম।জামাতে ইসলামী এদিন এক বিবৃতিতে ভুট্টোর হুমকির নিন্দা জানায় এবং এই অচলাবস্থা নিরসনে তাকে ঋজু হওয়ার পরামর্শ দেয়।
অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ন্যাপ পল্টন ময়দানে সমাবেশ করে যাতে বক্তৃতা দেন সাইফুদ্দিন মানিক, মতিয়া চৌধুরী, মহিউদ্দিন আহমেদ, নুরুল ইসলাম সহ অনেকে।
ঢাকা শহরে ছিলো হরতাল। স্কুল-কলেজ, কল-কারখানা সবগুলো ছিলো জনশূন্য, কোনো অফিসে কাজ হয়নি। লোকসমাগম বলতে রাস্তায় এবং প্রতিবাদ সমাবেশে। আগেই বলা হয়েছে তাদের গন্তব্য।

ঘুরে আসুন টাকা জাদুঘর থেকে


নিউজ ডেস্ক : দেয়ালে সাজানো থরে থরে টাকা। রঙ-বেরঙের নকশা করা টাকা। আছে পয়সাও। তবে এসব টাকা-পয়সার বেশির ভাগই অচল। অচল হলে কি হবে এগুলোর রয়েছে অ্যানটিক ভেল্যু। প্রাচীন আমল থেকে এই ভূখণ্ডে প্রচলিত প্রায় সব মুদ্রা দিয়ে সাজানো হয়েছে জাদুঘরটি। বলছি বাংলাদেশের একমাত্র টাকা জাদুঘরের কথা। এটির অবস্থান মিরপুর ২ নম্বর সেকশনের বাংলাদেশ ব্যাংকের ট্রেনিং একাডেমির দ্বিতীয় তলায়।

দুটি গ্যালারি দিয়ে সাজানো হয়েছে জাদুঘরটি। প্রথম গ্যালারিতে সাজানো আছে এ অঞ্চলের সবচেয়ে পুরোনো ছাপা মুদ্রা। এ মুদ্রার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, কতগুলো প্রতীকের ছাপ। সাধারণ রুপা দিয়ে তৈরি এ মুদ্রার প্রচলন শুরু হয় খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে। বাংলাদেশের মহাস্থানগড় ও নরসিংদী জেলার উয়ারী-বটেশ্বরে পাওয়া গেছে এ ধরনের অনেক মুদ্রা।

টাকার এ জাদুঘরে স্থান পেয়েছে আরও অনেক দুর্লভ মুদ্রা। এখানে আছে গুপ্তযুগের মুদ্রা, গুপ্তযুগ-পরবর্তী বাংলার মুদ্রা, খ্রিষ্টীয় সপ্তম থেকে নবম শতক পর্যন্ত হরিকেল রাজ্যে প্রচলিত রৌপ্য মুদ্রা এবং প্রাচীনকাল থেকে উনিশ শতকের প্রথমার্ধ পর্যন্ত বাংলায় ধাতব মুদ্রার পরিবর্তে ব্যবহৃত কড়িসহ বিভিন্ন যুগের মুদ্রা। এ ছাড়া রয়েছে বাংলাদেশে এ পর্যন্ত প্রচলিত সব মুদ্রা।

বিশ্বের প্রায় ১২০টি দেশের মুদ্রা স্থান পেয়েছে এখানে। তিনটি চিত্রের (ডিওরমায়) মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে বাংলার মুদ্রা বিনিময় ও সঞ্চয়ের পদ্ধতি।

প্রেম রসায়নে ওগো সর্বজনপ্রিয় “বিজ্ঞানী স্যার পি.সি. রায়"


pc ray
শরিফুল ইসলাম হিরণ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলার সামনে ছবির হাটে প্রতিদিনের মত আজও আমরা আড্ডা মারছিলাম। আমি ও মারুফ। বিভিন্ন কথার মধ্য দিয়ে এক সময় আমরা সিদান্ত নিলাম বিজ্ঞানী পি.সি. রায় এর বাড়ি ভ্রমণে যাব। সময়টি ছিল শীতকাল, তাই আর দেরী সহ্য হচ্ছিল না। যে কথা সেই কাজ সামনে আমাদের দুই দিনের ছুটি আছে। সে সময় ঘুরে আসা যাবে বিজ্ঞানির বাড়ি থেকে। দেখতে দেখতে একসময় সেই কাঙ্খিত দিন আসল। প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র গুছিয়ে নিয়েছি ব্যাগে করে। রাত ১০ টার সময় খুলনাগামী ট্রেনে উঠব আমরা। কিন্তু এখন বিকাল ৪টা। এখনও ৭ ঘন্টা পর ট্রেন ছাড়বে। আমাদের আর মন মানছিল না, আমি মারুফকে বললাম কাঁটা- লাইনে মাওয়া হয়ে খুলনা যাওয়া যাবে। সময় লাগবে ৬ ঘন্টা। ও বলল চল যাওয়া যাক। অন্তত ট্রেনে উঠার আগেই খুলনা পৌছে যাব আমরা।
আমরা রওনা হলাম, বাসে গুলিস্থান থেকে মাওয়ার উদ্দেশ্য। বাস ছাড়ল দেখতে দেখতে ঢাকার যানযাট ভেঙ্গে সুন্দর রাস্তা দিয়ে গাড়ি চলছে। গাড়ির জানলার ফাঁকদিয়ে চোখে পড়ল নীল আকাশ, সবুজ পরিবেশ। দেখতে দেখতে এসে পৌঁছালাম মাওয়া ঘাটে। মাওয়া পদ্মা নদীর ঘাট থেকে কাওড়াকান্দি লঞ্চে উঠলাম আমরা। বসলাম লঞ্চের ছাদে। বিকালে পদ্মা নদীতে এরকম লঞ্চ ভ্রমন সত্যিই অপূর্ব। যেদিক চোখ যায় সেদিক পানি আর পানি। মাঝে মধ্যে পদ্মার বিশাল চরে কাশ-ফুল যেন উকি মারছে। লঞ্চের পাশ দিয়ে সজোরে স্পীডবোড ছুটে চলে গেল। মাঝে মধ্যে মাছ ধরার নৌকা চোখে পড়ল। এর মধ্যে কাওড়াকান্দি ঘাটে এসে পৌঁছালাম, ঘাট থেকে গাড়ি-স্টান্ডে আসতেই খুলানার বাস ও মাইক্রোর ডাকাডাকি শুরু হল। আমরা মাইক্রোতে উঠলাম।

মাইক্রোতে আর মাত্র দু’জন হলে ছেড়ে যাবে। আমরা স্টান্ডে এক হোটেল থেকে হাত-মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হলাম, এবার কলা ও চা খেলাম। এরই মধ্যে ডাক এলো গাড়িতে উঠার, আমরা গাড়িতে উঠলাম। মাইক্রো চলা শুরু হল এখন সাড়ে ৬টা বাজে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম বুঝতে পারলাম না, হঠাৎ গাড়ি ব্রেকে ঘুম ভাঙ্গল উঠে দেখি মারুফ ঘুমাচ্ছে। গাড়ির জালানার ফাঁক দিয়ে বুঝতে চেষ্টা করলাম এটা কোন জায়গা। ড্রাইভার কে বললাম ভাই এটা কোন জায়গা? উনি বললেন কাঁটাখালি মোড়, খুলনায় পৌঁছাতে আর মাত্র ২০মিনিট লাগবে। ঘড়ির কাঁটার দিকে তাকলাম, এখন ৮টায় ৫৫মিনিট। গাড়ি এসে রূপসা ঘাটে থামল। আমরা দ্রুত নেমে পড়লাম।
 

ঘাট পার হয়ে ইজিবাইক নিয়ে সোজা চলে আসলাম হোটেল সিটি ইনে। আগে থেকে এ হোটেলটা আমার চেনা-জানা ছিল। হোটেলে যেয়ে দেখি একটা মাত্র সিঙ্গেল সিট খালি, বুকিং করে নিলাম। এখন করার কি, একটা সিটে দু’জন ডাবলিং করে থাকতে হবে। জামা কাপড় ছেড়ে ফ্রেশ হয়ে চলে আসলাম নিচে। রেষ্টুরেন্টে সবজি, রুটি ও চিংড়ি দিয়ে রাতে খাবার সারলাম। খাবার শেষে কোনদিকে না গিয়ে হোটেল রুমে ফিরে গেলাম। খুব সকালে উঠতে হবে বলে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়লাম। কাল শুক্রবার পাইকগাছা রাড়–লিয়া-কাটিপাড়া বিজ্ঞানি স্যার পি সি রায় এর বাড়িতে যেতে হবে।
 
 
সকালবেলা নাস্তা সেরে, হোটেলের বিল মিটিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। খুলনার সোনাডাঙ্গা-বাসস্টান্ড থেকে পাইকগাছা ৬০ কিলোমিটারের মত রাস্তা। যখন পাইকগাছার গাড়িতে উঠলাম তখন সকাল ৭টা। শীতের কুয়াশার চাঁদর ছিড়ে গাড়ি ছুটে চলল পাইকগাছা রাড়–লিয়া-কাটিপাড়ার দিকে। সকালের সূর্যটা যখন ভোরের শীশিরে পড়ল। মনে হল যেন, এক একটি শিশির দানা এক একটি মুক্তার কণা। রাস্তার চারিদিকে গ্রাম বাংলার প্রতিচ্ছবি কৃষকের কর্মব্যস্ত সময়, পুরোনো দিনের জমিদার বাড়ি, মসজিদ, মন্দির সহ অসংখ্য নিদর্শন দেখছি আর ভাবছি মহান সৃষ্টিকর্তার অপরূপ নিয়ামত। বাস যথা সময় এসে পৌঁছালো গদাইপুর-মোড়ে। গাড়ী থেকে নামতেই হকার এগিয়ে এলো দিনের কাগজ নিয়ে। পত্রিকা পড়া আমার নিত্যদিনের অভ্যাশ। তাই লুফে নিলাম একটি।
এবার পি সি রায় যে মহালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন সেটি ঠাকুর দালানের পাশে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। ভিতরে যাওয়ার কোন উপায় দেখছিনা, একসাইডে কাটাতারের বেড়া সেটা টপকে ভিতরে গেলাম। মোনে হচ্ছে অন্ধকার এক ভুতুড়ে বাড়িতে এসে পড়েছি। চারিদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। সুনসান নিরবতা, ভর দুপুর আসে পাসে কোন মানুষের সাড়াশব্দ নেই। আমরা ২জন হওয়ার সত্ত্ব্ওে ভয়-ভয় লাগছে। চারিদিকটা ঘুরে ফিরে বেশ কিছু ছবি তুললাম। বেরিয়ে এলাম পিসি রায়ের বাড়ি থেকে। পুকুর পাড় দিয়ে যাওয়ার সময় দেখলাম কো-অপারেটিভ ব্যাংক। 

রবীন্দ্রনাথকে বিমোহিত করেছে পতিসরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য


তাপস কুমার: ঐ-যে সমস্ত পৃথিবীটা চুপ করে পড়ে রয়েছে ওটাকে এমন ভালবাসি-ওর এই গাছপালা নদী মাঠ কোলাহল নিস্তদ্ধতা প্রভাত সন্ধ্যা সমস্তটা-সুদ্ধ দু’হাতে আঁকড়ে ধরতে ইচ্ছে করে। মনে হয় পৃথিবীর কাছ থেকে আমরা যে সব পৃথিবীর ধন পেয়েছি এসব কি কোন স্বর্গ থেকে পেতুম? স্বর্গ আর কী দিত জানি নে, কিন্তু এমন কোমলতা দুর্বলতাময়, এমন সকরুণ আশংকাভরা, অপরিণত এই মানুষগুলির মতো এমন আদরের ধন কোথা থেকে দিত।


রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৯১ সালের জানুয়ারী মাসে কালীগ্রাম (কালীগ্রাম পরগণার সদর পতিসর) থেকে ইন্দিরা দেবীকে এ চিঠিটি লেখেন। এ চিঠির কথাগুলোতে পতিসরের মাটি ও মানুষের প্রতি রবীন্দ্রনাথের গভীর ভালবাসা ও মমত্ব ফুটে উঠেছে। সেই সঙ্গে পতিসরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও রবীন্দ্রনাথকে বিমোহিত করেছে।


রবীন্দ্রনাথের পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর রাজশাহী জেলার কালীগ্রাম পরগণার এই জমিদারি কেনেন ১৯৩০ সালে। কালীগ্রাম পরগণার সদর দপ্তর ছিল পতিসর। পতিসর নওগাঁর আত্রাই উপজেলার একটি গ্রামের নাম। আত্রাই উপজেলা সদর থেকে পূর্বদিকে ১৪ কিলোমিটার দূরে দুর্গম এলাকায় অবস্থিত। নাগর নদের তীরের এই পতিসরেই বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের কাচারীবাড়ি।


জোড়া সাঁকোর ঠাকুর পরিবারের তত্কালীন পূর্ববঙ্গে তিনটি জমিদারি ছিল। নদীয়া (বর্তমান কুষ্টিয়া) জেলার বিরাহিমপুর (সদর শিলাইদহ) পরগণা, পাবনা জেলার সাজাদপুর পরগণা (সদর সাজাদপুর) এবং রাজশাহী জেলার কালীগ্রাম পরগণা (সদর পতিসর)। কবি ও জমিদার রবীন্দ্রনাথ কখনো শিলাইদহ থেকে, কখনো সাজাদপুর থেকে, কখনো আত্রাই ঘাট রেল স্টেশন থেকে নিজস্ব বজরায় পদ্মা, করতোয়া, বড়াল, আত্রাই, নাগর এবং চলনবিল পেরিয়ে জমিদারি তদারকের জন্য পতিসর আসতেন।


ড. শচীনন্দন ঘোষালের ‘পল্লী উন্নয়নে রবীন্দ্রনাথ’ গ্রস্থ থেকে জানা যায়, রবীন্দ্রনাথ জমিদারির প্রকৃত ভার পেয়েছিলেন ১৮৯৬ সালের আগষ্ট মাসে। দেবেন্দ্রনাথ ‘পাওয়ার অব অ্যাটনি’ করে সমস্ত সম্পত্তির সব কর্তৃত্ব তাঁর হাতে তুলে দিয়েছিলেন। ১৮৯০ সাল থেকে ১৮৯৬ সাল পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথ কে জমিদারির শিক্ষানবিশ করে কাটাতে হয়েছে। জমিদারির জটিল দায়-দায়িত্বের বিরাট বোঝা বহনের দক্ষতার পরীক্ষা দিয়ে হয়েছে পিতা দেবেন্দ্রনাথের কাছে।


ঠাকুরপরিবারের জমিদারি ভাগাভাগি হয় ১৯২০ সালে। রবীন্দ্র-গবেষক ড. সাইফুদ্দীন চৌধুরী রচিত ‘পতিসরে রবীন্দ্রনাথ’ গ্রস্থ থেকে জানা যায়, দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর একান্নবর্তী পরিবারের ভাগ-বাঁটোয়ারা নিজেই সম্পন্ন করে দেন। পাবনার সাজাদপুর পরগনা অনুজ গিরীন্দ্রনাথের ভাগে এবং নদীয়ার বিরাহিমপুর ও রাজশাহীর কালীগ্রাম পড়ে দ্বিজেন্দ্রনাথ, সত্যেন্দ্রনাথ এবং রবীন্দ্রনাথের ভাগে। পরবর্তীকালে জমিদারি আবার ভাগ হয়। শিলাইদহসহ বিরাহিমপুর পরগণা যায়, সত্যেন্দ্রনাথের পুত্র সুবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অংশে, রবীন্দ্রনাথের থাকে শুধু কালীগ্রাম পরগণা। শিলাইদহও পরে ঋণের দায়ে চলে যায় ভাগ্যকুলের কুন্ডুদের হাতে। ১৯২১ সালে জমিদারি পুরোপুরি ভাগ-বাঁটোয়ারর পর শুধু কালীগ্রাম পরগণার জমিদারি তদারকের কাজে বরীন্দ্রনাথকে বহুবার পতিসর আসতে হয়েছে।